কবিরা গুনাহ কি - কবিরা গোনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা?

 

কবিরা গুনাহ কি বা কবিরা গোনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা জানতে কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা শরীয়তের দাবি। প্রত্যেক ওই গুনাহ যার ব্যাপারে আখেরাতে আযাব-গুজাব হুমকি ও ধমক এসেছে। উক্ত পোষ্ট দ্বারা আমরা কবিরা গুনাহকারী ইহকাল ও পরকালের শাস্তি, এবং কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উপায় জানতে পারব।
কবিরা-গুনাহ-কি-কবিরা-গোনাহ-সম্পর্কে-বিস্তারিত-আলোচনা
যেকোন ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা একজন মুমিন-মুসলমানের অবশ্যইকীয় কর্তব্য। আর সেহেতু কবিরা গুনাহ ক্ষমার অযোগ্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যেহেতু তা থেকে বেঁচে থাকা উত্তম।

ভূমিকা

মহান আল্লাহ পাক কেয়ামতের দিন কবিরা গুনাহ ব্যাতিত সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন। কবিরা গুনাহ জঘন্যতম অপরাধ। এ জাতীয় গুনাহ সম্পাদনকারীর প্রতি আল্লাহ তায়ালা ও রাসূল (সাঃ) অভিসম্পাত করেছেন। নিচে কবিরা গুনাহের পরিচয় ও পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

কবিরা গোনাহের হুকুম 

কবিরা গোনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কবিরা গুনাহ এমন গুনাহ যা সম্পূর্ণরূপে হারাম। যার জন্য অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে দুনিয়া ও আখেরাতে শরীয়ত নির্ধারিত সুস্পষ্ট শাস্তি রয়েছে। ইমাম জাহাবী (রাঃ) বলেন, প্রত্যেক ঐ গুনাহ যার ব্যাপারে আখেরাতে আজাব গুজবের হুমকি-ধমকি এসেছ।
নবী করিম (সাঃ) বলেন, যে সকল গুনাহ সম্পাদনকারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে তাকে কবিরা গুনাহ বল।
যেকোন মানুষ কবিরা গোনাহের শাস্তির ভয়াবহতা জেনেও এ কাজে লিপ্ত হলে, তাকে তার পরিণতি তথা শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে।

কবিরা গুনাহের পরিচয়

কবিরা গুনাহের পরিচয় দিতে গিয়ে ইমাম যাহাবি (রঃ) বলেন, প্রত্যেক ঐ গুনাহই কবিরা গুনাহ, যার ব্যাপারে আখিরাতে আযাব-গজাবের হুকমি এসেছে, অথবা আমাদের নবি করিম (সাঃ)-এর পবিত্র জবানে যে সকল গুনাহ করার ফলে তা সম্পাদনকারীকে অভিসম্পাত করেছেন, তাকে কবিরা গুনাহ বলে।

কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উপায়  

কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা শরীয়তের দাবি। বিভিন্নভাবে এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। যথাঃ-
  • পাঁচ ওয়াক্ত সালাত সঠিকভাবে আদায় করা।
  • ফরজ সাওম/রোযা পালন করা।
  • নিজেকে অসহায় ও ছোট মনে করা।
  • মহাসাবা তথা আত্মসমীক্ষা করা।
  • ভয় ও আশার মাঝে থাকা।
  • আউলিয়া ও নেককারদের সঙ্গে থাকা।
  • আল্লাহ তায়ালা'র যিকির করা।
  • আল্লাহ তাআলাকে সবসময় করা।

কবিরা গুনাহ সম্পাদনকারী কাফির হয় কিনা

কবিরা গোনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা মতে, জহুর আলেমের মতে, কবিরা গুনাহ কারি কাফের হয় না। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় কবিরা গুনাহ যারা উদ্দেশ্য হলো ঐসব গুনাহ যেগুলো মানুষকে কাফিরে পরিণত করে না। তবে এর দ্বারা মানুষ ফাসেক হয়।
হযরত আলী (রাঃ) বলেন, যার জন্য আল্লাহ তাআলা আজাব-গজব ও লানত নিশ্চিত করেছেন, তাই কবিরা গুনাহ। অতএব এর দ্বারা বুঝা যায়, কবিরা গুনাহকারি কাফের নয়।

কবিরা গুনাহ দ্বারা উদ্দেশ্য

কবিরা গোনাহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তে কবিরা গুনাহ দ্বারা এমন সব কর্মকাণ্ডকে উদ্দেশ্য করা হয়, যা থেকে মহান আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তায়ালা যেসব কর্মে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাই কবিরা গুনাহ।
এখানে কবিরা গুনাহ দ্বারা ঐসব গুনাহ উদ্দেশ্য নয়. যার দ্বারা মুমিন ব্যক্তি আর মুমিন থাকে না। যেমন ইসলামের যে কোনো একটি বিধান অস্বীকার করা। অর্থাৎ, কবিরা গুনাহ দ্বারা ঐ গুনাহ উদ্দেশ্য যা বুফর নয়। কারণ কুফরি করলে সকলের ঐকমত্যে ইমান থাকে না।

কবিরা গুনাহের সংখ্যা 

কবিরা গুনাহের সংখ্যা নিরূপণে ওলামায়ে কিরামের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। যেমনঃ-
★ আব্দুল ইবনে ওমর (রাঃ) এর মতে, কবিরা গুনাহের সংখ্যা সাতটি। যথাঃ-
১. আল্লাহ তায়ালার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা।
২. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।
৩. পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।
৪. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
৫. সতি নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
৬. সুদ ভক্ষণ করা।
৭. এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা।
 আবু হোরায়রা (রাঃ)- এর মতে, কবিরা গুনাহ আটটি। উল্লিখিত সাতটি'সহ অন্যটি হলো-
৮. সুদ গ্রহণ করা।
★ হযরত আলি (রাঃ)- এর মতে কবিরা গুনাহ ১০ টি। উল্লিখিত ৮টি সহ -
৯. চুরি করা।
১০. মদ্যপান করা।
 বিভিন্ম আলেমদের মতে কবিরা গুনাহ সংখ্যা ১৮টি। উক্ত ১০টি সহ বাকিগুলো হলো-
১১. যেনা করা।
১২. সমকামিতা।
১৩. যাদু করা।
১৪. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।
১৫. মিথ্যা শপথ করা।
১৬. ডাকাতি করা।
১৭. গিবত করা।
১৮. জুয়া খেলা।
★ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর মতে, কবিরা গুনাহ ৭০টি।
প্রত্যেক গুনাহ অপেক্ষাকৃত ছোট গুনাহের তুলনায় কবিরা।

লেখকের মন্তব্য 

প্রিয় পাঠক বন্ধুগন আশা করি আপনি পুরো পোস্ট মনোযোগ সহকারে পাঠ করেছেন। এবং কাযা নামাজ সম্পর্কে সব কিছু জেনেছেন। অতএব, আমরা কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকব। কবিরা গুনাহের শাস্তি সম্পের্ক কুরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে। কেউ যদি হাজারও পাপ করে তার জান্নাতে যাওয়ার আশা আচে, কিন্তু কবিরা গুনাহ করার ফলে তার শাস্তি নিধ্যারিত করা হয়েছে,, জাহান্নাম।

এবং কেউ কেউ বলেন তার জান্নাত পাওয়ার কোন আশা নাই। অতএব, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দ্বারা যেনও কোন কবিরা গুনাহ বা যে কোন গুনাহ না হয়।

এই বলে আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করতেছি দেখা হবে অন্য কোন পোস্টে। আপনি যদি নিয়মিত পোস্ট পড়তে চান তাহলে আমাদের সাথেই থাকুন। পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট এবং শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শামিম বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url