তালাক সম্পর্কিত সমস্ত মাসআলা - তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া উপায়


তালাক সম্পর্কিত সমস্ত মাসআলা বা তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া উপায় ইসলাম একটি ভারসাম্য জীবনব্যবস্থা। বিবাহের মাধ্যমে নারীপুরুষের জীবনে আসে স্থিতিশীলতা। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন হয় মধুময়। তারপরও কখনো কখনো আনিবার্য কারনে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ, কন্টকময়। তখন উভয়ের তখন মাঝে বিচ্ছেদ ছাড়া বিকল্প কোন পথ থাকে না।
তালাক-সম্পর্কিত-সমস্ত-মাসআলা-তালাকের-পর-স্ত্রীকে-ফিরিয়ে-নেওয়া-উপায়
ইসলামের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের ব্যবস্থাকে তালাক বলা হয়। মহানবী (সাঃ) ঘোষণা করেন, আল্লাহ তাআলার কাছে হালাল কাজের মধ্যে সর্বোচ্চ/সবচাইতে নিকৃষ্ট কাজ হলো তালাক।

ভূমিকা

বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, সুখী সমৃদ্ধ মধুময় দাম্পত্য জীবন; কখনো যদি মধুর বন্ধনে কালো মেঘের অশান্তি নেমে আসে। আর তা দূর করার মতো কোনো উপায় থাকে না তখন বিচার ছাড়া কোন গত্যত্তর থাকে না। তাই ইসলাম সেই মধুর বন্ধন ছিন্ন করতে এক বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে। এ বিশেষ ব্যবস্থা কে বলা হয় তালাক।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রবিত্র বন্ধন ছিন্ন করাকেই তালাক বলে। তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া উপায় তালাকের প্রকারভেদ, কোন কোন শব্দ দ্বারা তালাক জায়েজ, বিভিন্ন ইমামদের মতে তালাকের মাসআলা,ইত্যাদি।

তালাকের আভিধানিক অর্থ

  • বন্ধন উঠিয়ে নেওয়া।
  • বন্ধন ছিন্ন করা ও শূন্য করা।
  • সাধারণভাবে বন্ধন তুলে নেওয়া। 
  • প্রেরণ করা, ছেড়ে দেয়।
  • বাধন মুক্ত ভক্ত হওয়া। 
  • বিচ্ছিন্ন করা। 
  • খালি কর। 
  • বন্ধন মুক্ত করা। 
  • বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া।
  • দাম্পত্য বন্ধন থেকে স্ত্রীকে স্বাধীন করা। 
  • তালাকের প্রকৃত অর্থ হলো বন্ধন থেকে মুক্ত করা।
  • বন্ধন খুলে দেয়া। 

শরয়ী অর্থ

  • বিশেষ শব্দের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন কর আগে তালাক বলে। 
  • তালাক হলাে বিবাহের অধিকার দূর করে দেয়া।
  • নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন কে ছিন্ন করার নাম তালাক। 
  • শব্দের মাধ্যমে বিয়ে ভেঙে দেয়া অথবা বন্ধন মুক্ত করা।

তালাকের প্রকারভেদ

ইসলামী আইন সাস্থবীদগণ তালাককে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েক প্রকার বিভক্ত করেছে। 
  • সিফাতের দিক থেকে তালাকের প্রকারভেদঃ- সিফাত তথা গুণের দিক থেকে তালাক ৩ প্রকার।
  • হুকুমের দিক থেকে তালাকের প্রকারভেদঃ- ফকিহগণের মতে হুকুমের দিক থেকে তালাক তিন প্রকার।
  • শব্দ প্রয়োগের দিক থেকে তালাকের প্রকারভেদঃ- শব্দ প্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তালাক দু'প্রকার। 

কার তালাক পতিত হবে

তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া উপায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করতে সাধারণত তালাকের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। সুতরাং স্বামী ছাড়া অন্য কেউ তার স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা রাখে না। তবে তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে স্বামীকেও কিছু যোগ্যতা ও গুণাবলীসম্পন্ন হতে হয়, তবেই স্ত্রীর ওপর তার তালাক পতিত হবে। ফিকাহ গ্রন্থকারের মতে। যথাঃ-
  • বালেগ তথা প্রাপ্তবয়স্ক, সে স্বাধীন হোক বা গোলাম হোক। 
  • বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি।
  • নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি।
  • জবরদস্তিকৃত।
  • ভুলকারী।
  • বধিরের তালাক তার নির্দিষ্ট ইঙ্গিত দ্বারা পতিত হবে।

তালাকের শব্দাবলি/যেসব শব্দ দ্বারা তারাক জায়েজ

আবু হানীফা (রাঃ) এর মতে কয়েকটি শব্দ দ্বারা তালাক জায়েজ।
  • তোমাকে তালাক প্রদান করলাম।
  • তুমি তালাক।
  • তুমি তালাকপ্রাপ্তা।
  • হে তালাকপ্রাপ্তা।
  • হে তালাকের মধ্যে তালাকপ্রাপ্তা।
  • তুমি তালাকের মতো তালাক।

মূলকথা

তালাক একটি অতি নিকৃষ্ট হালাল কাজ। তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া উপায় নিরুপায় অবস্থায় সর্বশেষ পদ্ধতি হিসেবে ইসলাম তালাকের অনুমতি দিয়েছে। আমাদের উচিত শরীয়ত নির্ধারিত পন্থায় তালাক প্রদান করা এবং এ ব্যাপারে কোনোরূপ সীমালঙ্ঘন না করা। 

তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে শব্দ প্রয়োগ পদ্ধতি দুটি। একটি হলো স্পষ্ট শব্দ প্রয়োগে তালাক প্রদান করা, আর অপরটি হলো ইঙ্গিতবহ শব্দ প্রয়োগে তালাক প্রদান করা। তালাকের মাধ্যমে যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধন ছিন্ন হয়, সেহেতু স্পষ্ট শব্দ প্রয়োগেই তালাক দেয়া উচিত।

উক্ত পোস্ট পড়ার পড়ে আপনার মতামত আমাদের জানাতে একটি কমেন্ট করুন। এবং একটি শেয়ার দিয়ে বন্ধুদের যানার সুযোগ করে দিবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

শামিম বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url